চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নাটোর জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এই ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নিজ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাটোর জেলায় উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে মোট ১৭৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ফল শূন্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি এমপিওভুক্ত এবং ১৬টি নন-এমপিওভুক্ত। এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ এবং নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়, বাগাতিপাড়া উপজেলার পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও টিপুরিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ।
এছাড়াও গুরুদাসপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য ও বিজনেস ইনস্টিটিউট রয়েছে। লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদ্রাসা ও রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, প্রস্তুতির ঘাটতি ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। গুরুদাসপুরের চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, তাদের ২৩ জন পরীক্ষার্থীই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। তিনি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি পরবর্তী পরীক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর আশা প্রকাশ করেছেন। একইভাবে নলডাঙ্গার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর ভালো ফলাফল করলেও এবার এমন ফলে তারা বিস্মিত এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবেন। পাশাপাশি ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানিয়েছেন, অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার অলক মৈত্রের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। আগামীতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পেছনে শিক্ষার্থী ছাড়াও পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকতে পারে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নাটোর জেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এই ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নিজ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাটোর জেলায় উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে মোট ১৭৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ফল শূন্য। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি এমপিওভুক্ত এবং ১৬টি নন-এমপিওভুক্ত। এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ এবং নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোর সদর উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়, বাগাতিপাড়া উপজেলার পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও টিপুরিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ।
এছাড়াও গুরুদাসপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য ও বিজনেস ইনস্টিটিউট রয়েছে। লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদ্রাসা ও রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদ্রাসা এবং সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, প্রস্তুতির ঘাটতি ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। গুরুদাসপুরের চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, তাদের ২৩ জন পরীক্ষার্থীই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। তিনি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি পরবর্তী পরীক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর আশা প্রকাশ করেছেন। একইভাবে নলডাঙ্গার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর ভালো ফলাফল করলেও এবার এমন ফলে তারা বিস্মিত এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবেন। পাশাপাশি ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানিয়েছেন, অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার অলক মৈত্রের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। আগামীতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পেছনে শিক্ষার্থী ছাড়াও পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন