দৈনিক নিবার্তা

সোনাগাজীতে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে শিশুর মরদেহ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ধোঁয়াশা



সোনাগাজীতে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে শিশুর মরদেহ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ধোঁয়াশা
ছবিতে- নিহত সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৩)

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনাগাজী | প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে বাবা ও মায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠায় ঘটনার রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের ঈদগাহের পশ্চিম পাশে মোজাফফর বাড়িতে। নিহত আয়াত ওই বাড়ির শেখ শাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদাউস মনির মেয়ে

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে শেখ মুজিবের ছেলে শেখ শাহাব সজীবের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শেখ আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস মনির বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর সজীব সৌদি আরবে চলে যান।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সজীব সৌদি আরবে যাওয়ার কিছুদিন পর তার স্ত্রী মনি ও শিশু কন্যাকে শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর মনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি শিশুটির দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচারা তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে দেন বলে অভিযোগ করেন মনি। পরে তার অভিযোগের পর স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সজীব সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। মনির অভিযোগ, শিশুটির দাদা-দাদি, ফুফু ও চাচারা সজীব ও মনির বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ চান। শিশুটি জীবিত থাকলে তাদের বিচ্ছেদে বাধা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

মনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মেয়েকে নিয়ে স্বামীর দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার দিন ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মনি তার মেয়ে আয়াতকে দাদির কাছে রেখে বাবার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে শিশুটির দাদি নামাজ পড়তে গেলে আয়াত রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে শিশুটির দাদা শেখ মুজিব সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে রাতে তার মা মনি দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

রাত ১২টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। এরপর শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির ফুফু রুমি আক্তার বাড়ির পুকুরে আয়াতের মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

শুক্রবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, “এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা স্পষ্ট হবে।

বিষয় : সোনাগাজী শিশু হত্যা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক নিবার্তা

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সোনাগাজীতে নিখোঁজের ১৭ ঘণ্টা পর পুকুরে শিশুর মরদেহ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ধোঁয়াশা

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনাগাজী | প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে বাবা ও মায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠায় ঘটনার রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের ঈদগাহের পশ্চিম পাশে মোজাফফর বাড়িতে। নিহত আয়াত ওই বাড়ির শেখ শাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদাউস মনির মেয়ে

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে শেখ মুজিবের ছেলে শেখ শাহাব সজীবের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শেখ আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস মনির বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর সজীব সৌদি আরবে চলে যান।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সজীব সৌদি আরবে যাওয়ার কিছুদিন পর তার স্ত্রী মনি ও শিশু কন্যাকে শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর মনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি শিশুটির দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচারা তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে দেন বলে অভিযোগ করেন মনি। পরে তার অভিযোগের পর স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সজীব সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। মনির অভিযোগ, শিশুটির দাদা-দাদি, ফুফু ও চাচারা সজীব ও মনির বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ চান। শিশুটি জীবিত থাকলে তাদের বিচ্ছেদে বাধা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

মনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মেয়েকে নিয়ে স্বামীর দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনার দিন ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মনি তার মেয়ে আয়াতকে দাদির কাছে রেখে বাবার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে শিশুটির দাদি নামাজ পড়তে গেলে আয়াত রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে শিশুটির দাদা শেখ মুজিব সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে রাতে তার মা মনি দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

রাত ১২টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। এরপর শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির ফুফু রুমি আক্তার বাড়ির পুকুরে আয়াতের মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

শুক্রবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, “এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা স্পষ্ট হবে।


দৈনিক নিবার্তা

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান
দৈনিক নিবার্তা- সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত