দৈনিক নিবার্তা

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামানকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

ছাত্রদল নেতা শাকিল মৃত্যুর ঘটনা: এমপির ছেলের ফের দুই দিনের রিমান্ড


Nibarta
Nibarta
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ছাত্রদল নেতা শাকিল মৃত্যুর ঘটনা: এমপির ছেলের ফের দুই দিনের রিমান্ড

নাটোর-৪ আসনের (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, আগের তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য মেলেনি। তবে সব কিছু পর্যালোচনার পর আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের আগে-পরে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন। এমপির ছেলেকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, নাটোর জেলা বিএনপির বিশেষ সভা।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার রহস্য উন্মোচনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। এরই অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নীল-সাদা রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এটি জব্দ করে ডিবি। বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সময় এটি সড়কে পড়ে গিয়ে ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অবস্থান জানতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া জরুরি। আমরা গতকাল (সোমবার) ঘটনার সময় খুনিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে থাকা নূরুজ্জামান এবং প্রবাসী রাসেল হোসাইনকে ঘিরে বর্তমানে সব সন্দেহ যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। কারাগার থেকে দুপুর ১২টার দিকে নূরুজ্জামানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আদেশ পাওয়ার পরপরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশি হেফাজত নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তাই তাঁকে আবার রিমান্ডে দেওয়া উচিত হবে না। তবে চূড়ান্ত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত শাকিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিরূপণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক নিবার্তা

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ছাত্রদল নেতা শাকিল মৃত্যুর ঘটনা: এমপির ছেলের ফের দুই দিনের রিমান্ড

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নাটোর-৪ আসনের (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, আগের তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য মেলেনি। তবে সব কিছু পর্যালোচনার পর আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের আগে-পরে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার ও মাহবুব হোসেন। এমপির ছেলেকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন, নাটোর জেলা বিএনপির বিশেষ সভা।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার রহস্য উন্মোচনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। এরই অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নীল-সাদা রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এটি জব্দ করে ডিবি। বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিকানা শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সময় এটি সড়কে পড়ে গিয়ে ডান পাশে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অবস্থান জানতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া জরুরি। আমরা গতকাল (সোমবার) ঘটনার সময় খুনিদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে থাকা নূরুজ্জামান এবং প্রবাসী রাসেল হোসাইনকে ঘিরে বর্তমানে সব সন্দেহ যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। কারাগার থেকে দুপুর ১২টার দিকে নূরুজ্জামানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আদেশ পাওয়ার পরপরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশি হেফাজত নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তাই তাঁকে আবার রিমান্ডে দেওয়া উচিত হবে না। তবে চূড়ান্ত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত শাকিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিরূপণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।


দৈনিক নিবার্তা

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান
দৈনিক নিবার্তা- সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত