দৈনিক নিবার্তা

আশুলিয়ায় মামলার জেরে ব্যবসায়ীকে সপরিবারে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি।



আশুলিয়ায় মামলার জেরে ব্যবসায়ীকে সপরিবারে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক | সাভার/আশুলিয়া

​সাভারের আশুলিয়ায় একটি মামলার জেরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছেলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি এবং ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রনি ভূঁইয়া স্থানীয় প্রভাবশালী বকুল ভূঁইয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। দফায় দফায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও হুমকির মুখে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত দুই মাস ধরে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম জানান, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তার ‘মক্কা ফার্নিচার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্ত রনি ভূঁইয়া ও তার বাবা বকুল ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথমবার তার প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আনারুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ উঠেছে, মামলা দায়ের করার পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে ব্যবসায়ীকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ায় গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় ওই কারখানায় পুনরায় আগুন দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

আনারুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “মামলা করার পর থেকেই ফোনে এবং লোক পাঠিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জীবনের ভয়ে গত দুই মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”

​তিনি আরও জানান, তিনি ‘একতা সমবায় সমিতি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সমিতির শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। কিন্তু সমিতির সব অর্থ ঋণ হিসেবে এলাকায় বিনিয়োগ করা থাকায় তিনি এখন দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, নিরাপত্তার বিষয়ে আশুলিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীকে ‘সাবধানে’ ও ‘বাইরে চলে যেতে’ পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীকে হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক নিবার্তা

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


আশুলিয়ায় মামলার জেরে ব্যবসায়ীকে সপরিবারে হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবি।

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক | সাভার/আশুলিয়া

​সাভারের আশুলিয়ায় একটি মামলার জেরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছেলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি এবং ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রনি ভূঁইয়া স্থানীয় প্রভাবশালী বকুল ভূঁইয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। দফায় দফায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও হুমকির মুখে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত দুই মাস ধরে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম জানান, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তার ‘মক্কা ফার্নিচার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্ত রনি ভূঁইয়া ও তার বাবা বকুল ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথমবার তার প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আনারুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ উঠেছে, মামলা দায়ের করার পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে ব্যবসায়ীকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ায় গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় ওই কারখানায় পুনরায় আগুন দিয়ে সব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

আনারুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “মামলা করার পর থেকেই ফোনে এবং লোক পাঠিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জীবনের ভয়ে গত দুই মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”

​তিনি আরও জানান, তিনি ‘একতা সমবায় সমিতি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সমিতির শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অর্থ ফেরত চাচ্ছেন। কিন্তু সমিতির সব অর্থ ঋণ হিসেবে এলাকায় বিনিয়োগ করা থাকায় তিনি এখন দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, নিরাপত্তার বিষয়ে আশুলিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ব্যবসায়ীকে ‘সাবধানে’ ও ‘বাইরে চলে যেতে’ পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীকে হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক নিবার্তা

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান
দৈনিক নিবার্তা- সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত