দৈনিক নিবার্তা

সংঘাত

ইরান যুদ্ধের ১৯তম দিন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৯ মার্চ, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ১৯তম দিনে (১৮ মার্চ) সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন দেশে হামলা, জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।সংঘাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কাছে এখনো কয়েক হাজার স্বল্পপাল্লার রকেট মজুত রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের তাইবেহ এলাকায় হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলের ৬টি মার্কাভা ট্যাংক লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে ন্যাটো দক্ষিণ তুরস্কে অতিরিক্ত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। একই সময় ইসরায়েল ইরানের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।জ্বালানি খাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সৌদি আরবের রিয়াদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স ও সৌদি আরামকো স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কাতারের রাস লাফান রিফাইনারিতেও ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।এদিকে ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০টি রাডার সাইটে হামলার প্রমাণও মিলেছে। বিভিন্ন দেশের ৭টি ঘাঁটিতে ২৫টির বেশি স্থানে আঘাত হানার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।সমুদ্রপথেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর ইরানি স্পিডবোটকে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আরব দেশগুলো সেনা সহায়তা দেবে এবং ইসরায়েল গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করবে বলে জানা গেছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেয়ীকে চিঠি পাঠিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় নতুন হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে, যেখানে একদিনে ৮০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য কমেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলারের বেশি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৮ ডলারের উপরে উঠেছে।এদিকে, পেন্টাগন ইরান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট অনুমোদনের অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খাওর ফাক্কান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে হামলার তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউকেএমটিও। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি, সামরিক ও কূটনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরান যুদ্ধের ১৯তম দিন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা