দৈনিক নিবার্তা

মেজর সিনহা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ওসি প্রদীপের বুটের চাপে থেমে যায় সিনহার শ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার | নিবার্তা:সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত হতে কক্সবাজারে যান মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে। বহুল আলোচিত এই মামলার ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২ জুন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ কক্সবাজার আদালতের রায় বহাল রেখে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেন। দণ্ডিতদের আপিল এবং খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে বাদীর ফৌজদারি আবেদন খারিজ করা হয়েছে। রায়ে উঠে এসেছে—২০১৮ সালে ব্যক্তিগত কারণে অবসর নেওয়ার পর সিনহা ‘জাস্ট গো’ নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও নির্মাণে যুক্ত হন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে কক্সবাজার, টেকনাফ ও রামুর বিভিন্ন স্থানে শুটিং করতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রদীপ–লিয়াকতের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ শোনেন তিনি। পরে মেরিন ড্রাইভে প্রদীপের সঙ্গে দেখা হলে অভিযোগ জানতে চাওয়ায় প্রদীপ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। ৩১ জুলাই রাতে শুটিং শেষে রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর চেকপোস্টে সিনহার গাড়ি থামানো হয়। আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে পরিচয় দিলেও লিয়াকত আলী পরপর গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাতকড়া পরানো হয় সিনহাকে। পানি চাইলে লিয়াকত গালি দিয়ে লাথি মারেন। এরপর ঘটনাস্থলে আসেন ওসি প্রদীপ। উপুড় হয়ে পড়ে থাকা সিনহার গলায় বুটজুতা দিয়ে চাপ দিয়ে তিনি বলেন, "অনেক টার্গেট করে তোকে মেরেছি"। রায়ে উল্লেখ—সে চাপেই সিনহার দেহ কেঁপে উঠে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়; প্রদীপ নিশ্চিত করেন তার মৃত্যু। ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস নয় পুলিশ সদস্যকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। র‌্যাব তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রদীপসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার আদালত প্রদীপ–লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন দেন। হাইকোর্ট সেই রায়ই বহাল রেখেছে।

মেজর সিনহা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ওসি প্রদীপের বুটের চাপে থেমে যায় সিনহার শ্বাস