দৈনিক নিবার্তা

সাভারে ‘সাইকো সম্রাট’ গ্রেফতার: ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬ মাসে ৫ খুন।



সাভারে ‘সাইকো সম্রাট’ গ্রেফতার: ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬ মাসে ৫ খুন।
পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার




সাভার | দৈনিক নিবার্তা: 

সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে স্তব্ধ, ঠিক তখনই তাৎক্ষণিক অভিযানে ভয়াবহ সেই রহস্যের জট খুলে দিয়েছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে এক নারী ও এক শিশুর পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাসে একই স্থানে ৫টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছিল। সর্বশেষ জোড়া লাশ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ধারণ করা আগের দিনের ভিডিও ফুটেজে সম্রাটের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছে, গত ছয় মাসে একই স্থানে ৫ থেকে ৬টি হত্যাকাণ্ড সে ঘটিয়েছে। রবিবারের জোড়া খুন ছাড়াও গত বছরের ২৯ আগস্ট, ১১ অক্টোবর ও ১৯ ডিসেম্বর উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পেছনেও তার হাত ছিল বলে জানিয়েছে সে। পুলিশ জানায়, পরিচয় গোপন করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মরদেহ পুড়িয়ে ফেলত সম্রাট।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্রাটকে একজন সাধারণ ভবঘুরে হিসেবেই চিনতেন। সে কখনো চুপচাপ বসে থাকত, কখনো একা একা বিড়বিড় করত। তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর এক সিরিয়াল কিলার লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এক বাসিন্দা বলেন, “যাকে প্রতিদিন চোখের সামনে দেখতাম, সে যে একজন সিরিয়াল কিলার—এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও স্পর্শকাতর। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে এবং রিমান্ড আবেদন করা হবে।”

এদিকে, সাভারের এই ‘সিরিয়াল কিলিং’ রহস্য উন্মোচনের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিত্যক্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



বিষয় : হত্যাকাণ্ড গ্রেফতার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক নিবার্তা

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


সাভারে ‘সাইকো সম্রাট’ গ্রেফতার: ভবঘুরের ছদ্মবেশে ৬ মাসে ৫ খুন।

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image




সাভার | দৈনিক নিবার্তা: 

সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে স্তব্ধ, ঠিক তখনই তাৎক্ষণিক অভিযানে ভয়াবহ সেই রহস্যের জট খুলে দিয়েছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে এক নারী ও এক শিশুর পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাসে একই স্থানে ৫টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছিল। সর্বশেষ জোড়া লাশ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ধারণ করা আগের দিনের ভিডিও ফুটেজে সম্রাটের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছে, গত ছয় মাসে একই স্থানে ৫ থেকে ৬টি হত্যাকাণ্ড সে ঘটিয়েছে। রবিবারের জোড়া খুন ছাড়াও গত বছরের ২৯ আগস্ট, ১১ অক্টোবর ও ১৯ ডিসেম্বর উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পেছনেও তার হাত ছিল বলে জানিয়েছে সে। পুলিশ জানায়, পরিচয় গোপন করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মরদেহ পুড়িয়ে ফেলত সম্রাট।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্রাটকে একজন সাধারণ ভবঘুরে হিসেবেই চিনতেন। সে কখনো চুপচাপ বসে থাকত, কখনো একা একা বিড়বিড় করত। তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর এক সিরিয়াল কিলার লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।

এক বাসিন্দা বলেন, “যাকে প্রতিদিন চোখের সামনে দেখতাম, সে যে একজন সিরিয়াল কিলার—এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও স্পর্শকাতর। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে এবং রিমান্ড আবেদন করা হবে।”

এদিকে, সাভারের এই ‘সিরিয়াল কিলিং’ রহস্য উন্মোচনের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিত্যক্ত ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




দৈনিক নিবার্তা

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান
দৈনিক নিবার্তা- সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত