ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী মিত্র দেশ—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনায় ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে ইউএই থেকে পাঠানো সাঁজোয়া যান ও অস্ত্রবাহী একটি জাহাজে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে থাকা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনের আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)-এর জন্য পাঠানো হচ্ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্ত্র সরবরাহ ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ও সৌদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
এই ঘটনার পরপরই সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে ইউএই-এর সামরিক তৎপরতাকে “বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে—নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
সৌদি আরব স্পষ্টভাবে ইউএই-কে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন ইয়েমেনি গোষ্ঠীর প্রতি সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, ইউএই-সমর্থিত STC গোষ্ঠীর ইয়েমেন–সৌদি সীমান্তে হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার দেশে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশ, নৌ ও স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের ঘোষণা—সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউএই দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রকাশ্য এই দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী মিত্র দেশ—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনায় ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে ইউএই থেকে পাঠানো সাঁজোয়া যান ও অস্ত্রবাহী একটি জাহাজে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে থাকা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনের আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)-এর জন্য পাঠানো হচ্ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্ত্র সরবরাহ ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা ও সৌদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
এই ঘটনার পরপরই সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে ইউএই-এর সামরিক তৎপরতাকে “বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে—নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
সৌদি আরব স্পষ্টভাবে ইউএই-কে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন ইয়েমেনি গোষ্ঠীর প্রতি সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, ইউএই-সমর্থিত STC গোষ্ঠীর ইয়েমেন–সৌদি সীমান্তে হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার দেশে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশ, নৌ ও স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের ঘোষণা—সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউএই দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রকাশ্য এই দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিনের মিত্র দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন