সুদীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ৩ মাস পর নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান নিজেকে উপস্থাপন করেছেন একজন পরিপক্ক, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিবিদ হিসেবে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া তাঁর এই ভাষণ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি সম্বোধন করেন—
“প্রিয় বাংলাদেশ”—এই একটি শব্দেই ফুটে ওঠে তাঁর ভাষা, টোন ও রাজনৈতিক অবস্থানের সুস্পষ্ট পরিবর্তন। কোনো বিভাজনের ভাষা নয়, বরং সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে এক কাতারে আনার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন,
“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে—সে যে ধর্মেরই হোক, যে মতেরই হোক।”
তিনি একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে আইনের শাসন, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
ভাষণে উঠে আসে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাইয়ের ইতিহাস। তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন—
এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের ভাষণের অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল তাঁর ঘোষণা—
“I have a plan (আমার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে)”।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর ঐতিহাসিক “I have a dream” বক্তব্যের একটি নীতিনির্ভর ও বাস্তববাদী রূপান্তর।
তিনি স্পষ্ট করে জানান,
দেশ পরিচালনায় তিনি কেবল আবেগ নয়, বরং নীতিগত, কাঠামোগত ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—
তিনি তাঁর ভাষণে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেননি। এমনকি গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ভিন্নমতের দলগুলোকেও আক্রমণ না করে বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি অল-ইনক্লুসিভ পলিটিক্স–এর একটি স্পষ্ট বার্তা, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাষণের একাধিক অংশজুড়ে তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দেন তরুণ নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের ওপর। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের চিন্তা, মেধা ও নেতৃত্ব অপরিহার্য।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
এই বক্তব্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে আশা, আস্থা ও প্রত্যাশা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারেক রহমানের এই ভাষণ শুধু একটি প্রত্যাবর্তনের বক্তৃতা নয়—
বরং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত, যেখানে ঐক্য, পরিকল্পনা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রই মূল ভিত্তি।
সত্যিই কি বাংলাদেশ নতুন এক নেতৃত্বের পথে হাঁটছে—
যার হাত ধরে নিশ্চিত হবে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র?
এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
তবে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ ইতোমধ্যে সেই প্রত্যাশার বীজ বপন করেছে।
অভিনন্দন জনাব তারেক রহমান।

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
সুদীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ৩ মাস পর নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান নিজেকে উপস্থাপন করেছেন একজন পরিপক্ক, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিবিদ হিসেবে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দেওয়া তাঁর এই ভাষণ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি সম্বোধন করেন—
“প্রিয় বাংলাদেশ”—এই একটি শব্দেই ফুটে ওঠে তাঁর ভাষা, টোন ও রাজনৈতিক অবস্থানের সুস্পষ্ট পরিবর্তন। কোনো বিভাজনের ভাষা নয়, বরং সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে এক কাতারে আনার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন,
“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে—সে যে ধর্মেরই হোক, যে মতেরই হোক।”
তিনি একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে আইনের শাসন, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
ভাষণে উঠে আসে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাইয়ের ইতিহাস। তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন—
এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের ভাষণের অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল তাঁর ঘোষণা—
“I have a plan (আমার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে)”।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর ঐতিহাসিক “I have a dream” বক্তব্যের একটি নীতিনির্ভর ও বাস্তববাদী রূপান্তর।
তিনি স্পষ্ট করে জানান,
দেশ পরিচালনায় তিনি কেবল আবেগ নয়, বরং নীতিগত, কাঠামোগত ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো—
তিনি তাঁর ভাষণে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেননি। এমনকি গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ভিন্নমতের দলগুলোকেও আক্রমণ না করে বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি অল-ইনক্লুসিভ পলিটিক্স–এর একটি স্পষ্ট বার্তা, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাষণের একাধিক অংশজুড়ে তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দেন তরুণ নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মের ওপর। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের চিন্তা, মেধা ও নেতৃত্ব অপরিহার্য।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,
এই বক্তব্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে আশা, আস্থা ও প্রত্যাশা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
তারেক রহমানের এই ভাষণ শুধু একটি প্রত্যাবর্তনের বক্তৃতা নয়—
বরং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত, যেখানে ঐক্য, পরিকল্পনা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রই মূল ভিত্তি।
সত্যিই কি বাংলাদেশ নতুন এক নেতৃত্বের পথে হাঁটছে—
যার হাত ধরে নিশ্চিত হবে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র?
এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
তবে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ ইতোমধ্যে সেই প্রত্যাশার বীজ বপন করেছে।
অভিনন্দন জনাব তারেক রহমান।

আপনার মতামত লিখুন