সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি:
ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক। এ ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
জানা যায়, ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন—
“শোনা যাচ্ছে— নেতা মুচলেকা দিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন, এখন মুচলেকা দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন। ছি! এ জীবনের! এর চেয়ে মৃত্যু অনেক শ্রেয়। বিড়ালের মত ১০০ বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মত ১ ঘন্টা বাঁচাই উত্তম। যার প্রমাণ শরীফ ওসমান হাদি।”
স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিএনপি নেতাকর্মীরা একে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অরুচিকর মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমি কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে শোকজ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আল-হেলাল সোসাইটির সেক্রেটারি ও পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মহসিন ভূঞা জানান, ভুল বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ওমর ফারুকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সোনাগাজী পৌর বিএনপি। এতে স্বাক্ষর করেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ওমর ফারুকের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা। ফেসবুকে ইতোমধ্যে তার একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের তোষামোদ করতেন এবং আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওমর ফারুকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন কুরুচিপূর্ণ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি:
ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক। এ ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
জানা যায়, ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন—
“শোনা যাচ্ছে— নেতা মুচলেকা দিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন, এখন মুচলেকা দিয়ে দেশে ফিরতে পারেন। ছি! এ জীবনের! এর চেয়ে মৃত্যু অনেক শ্রেয়। বিড়ালের মত ১০০ বছর বাঁচার চেয়ে সিংহের মত ১ ঘন্টা বাঁচাই উত্তম। যার প্রমাণ শরীফ ওসমান হাদি।”
স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিএনপি নেতাকর্মীরা একে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অরুচিকর মন্তব্য হিসেবে আখ্যা দেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী আল-হেলাল একাডেমি কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে শোকজ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আল-হেলাল সোসাইটির সেক্রেটারি ও পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মহসিন ভূঞা জানান, ভুল বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ওমর ফারুকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সোনাগাজী পৌর বিএনপি। এতে স্বাক্ষর করেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ওমর ফারুকের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা। ফেসবুকে ইতোমধ্যে তার একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের তোষামোদ করতেন এবং আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওমর ফারুকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন কুরুচিপূর্ণ ও রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আপনার মতামত লিখুন