স্পোর্টস ডেস্ক | দৈনিক নিবার্তা দোহা, কাতার: শেষ বল-শেষ রান-শেষ দৌঁড়—সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হলো না বাংলাদেশের ‘এ’ দলের। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের শিরোপা লড়াইয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে স্কোর সমান হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। কিন্তু সেখানেই থমকে যায় লালসবুজের স্বপ্ন। পাকিস্তান শাহীন্সের বিপক্ষে মাত্র চার বলেই পরাজয়ের তিতা স্বাদ পেয়ে রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আকবর আলীর দলকে।■ ব্যাটিং দুর্ভোগে শুরু, তবু লড়াইয়ের শেষ নেই১২৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। জিসান আলম (৬) দ্রুত ফিরলেও হাবিবুর রহমান সোহান (২৬) আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচে রাখেন দলকে। কিন্তু মাঝের ওভারে পরপর উইকেট হারিয়ে খেই হারায় ‘এ’ দল। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ফিরেন শূন্য রানে, অধিনায়ক আকবর আলী মাত্র ২ রানে, ইয়াসির আলী রাব্বি ৮ রানে ফিরলে ম্যাচ পুরোপুরি হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।■ সাকলাইন–রিপনের তাণ্ডবে ম্যাচ আবার জীবন্ত১৪ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ম্যাচে ফিরে আসার স্বপ্ন যেন ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন ও রিপন মণ্ডলের। ১৯তম ওভারে পাকিস্তানি বোলার শহীদ আজিজকে টানা তিনটি ছক্কা মেরে সাকলাইন একাই ম্যাচের চেহারা বদলে দেন। দুইজনের জুটি মিলে ২০ রান তোলায় শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৭ রান। নাটকীয়তায় ভরপুর এই শেষ ওভারে শেষ অবধি বাংলাদেশ করতে পারে ৬ রান। ফলে সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ওভার—১২০ বল শেষে দুই দলই ১২৫ রানে।■ সুপার ওভার: আবারও ভাগ্যের পরিহাসসুপার ওভারে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই রান এলেও চাপ নিতে পারেননি ব্যাটাররা। দ্বিতীয় বলেই সাকলাইন ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ব্যাকফুটে চলে যায় দল। তারওপর তৃতীয় বৈধ বলে জিসান আলম বোল্ড হলে মাত্র ৬ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের সুপার ওভার।লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৭। রিপন মণ্ডল বল হাতে নিলেও পাকিস্তান মাত্র চার বলেই কাজ সারেন—সাদ মাসুদের শটেই নিশ্চিত হয় তাদের তৃতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের ইতিহাস।■ বোলারদের হৃদয়ছোঁয়া লড়াইএর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানকে শুরুতেই বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই সাকলাইনের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন ইয়াসির খান। এরপর রিপন মণ্ডলের দুর্দান্ত স্পেল (৩ উইকেট) এবং রাকিবুল হাসানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং (২ উইকেট) পাকিস্তানকে আটকে দেয় ১২৫ রানে। সাদ মাসুদের ৩৮ রানের ইনিংস না হলে আরও কমেই আটকাতো দলটি।■ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতশিরোপা হাতছাড়া হলেও লড়াই ছিল অনন্য। শেষদিকে সাকলাইন ও রিপনের ব্যাটিং দেখিয়েছে দলের গভীরতা। রিপনের বোলিং—ভবিষ্যতে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার ইঙ্গিত। চাপের মুহূর্তেও যে লড়াইয়ের মানসিকতা, সেটিই এই তরুণ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশ ‘এ’ দল শিরোপা না পেলেও দোহায় তারা দেখিয়েছে—বীরত্ব মানে শেষ বল পর্যন্ত লড়ে যাওয়া।