আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে জাদুবিদ্যা ও কুসংস্কারের নামে ঘটে চলেছে চাঞ্চল্যকর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। বিবিসি আফ্রিকা আই–এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে—এখানে কাউকে “উইচ” বা “অশুভ আত্মার বাহক” সন্দেহ হলেই তাকে সমাজচ্যুত করা, মারধর করা কিংবা কখনো কখনো হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগ ওঠে সাধারণত সমাজের সবচেয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল, নিঃস্ব বা পরিবারহীন মানুষের বিরুদ্ধে। গ্রামীণ অঞ্চলে প্রচলিত কুসংস্কার অনুযায়ী, অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা মৃত্যু—সবকিছুর জন্য দায়ী করা হয় “দুষ্ট আত্মা” বা “জাদুবিদ্যা”। এই ভীতি কাজে লাগিয়ে অনেক তথাকথিত ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অর্থ আদায় বা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।তদন্তে দেখা গেছে— সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাউকে অন্ধকার কক্ষে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। অনেকে বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, কেউ আশ্রয় পায় না। কিছু ঘটনায় সরাসরি হত্যার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশ অনেক সময় ঘটনাগুলোকে “সামাজিক বিশ্বাস” বলে এড়িয়ে যায়, ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, “জাদুবিদ্যা”র অভিযোগকে ভিত্তি করে যে নির্যাতন চলছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। বিশেষ করে নারীরা, বৃদ্ধা, সম্পত্তিহীন পরিবার—এরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কুসংস্কার ও ভয়ভীতি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে অনেকে নিজের আত্মীয়কেও সন্দেহের তালিকায় ফেলতে দ্বিধা করছে না।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন—এ সমস্যা আর ধর্মীয় বিশ্বাস বা আধ্যাত্মিকতার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন সামাজিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং নিরাপত্তাহীনতার বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।সিয়েরা লিওনে জাদুবিদ্যা–সংক্রান্ত সহিংসতা নতুন নয়। তবে বিবিসির তদন্ত বলছে—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রকোপ বেড়েছে, এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই এখনো অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।