প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
আলাদিনের চেরাগ হাতে সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল: দুর্নীতির জালে হাজার কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগা
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলাকালে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের।অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। রাজধানীর আফতাবনগরে বিলাসবহুল ভবনে তার অন্তত ২৯টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া গুলশান-১ এলাকার কোহিনুর টাওয়ারে দুই ফ্লোরজুড়ে ডুপ্লেক্স বাসভবনে বসবাস করছেন তিনি।তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গুলশান, নিকেতন, হাতিরঝিল ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য কোটি টাকার উপরে। গুলশান-১ এর লেক সার্কেল এলাকার একটি ফ্ল্যাটের মূল্যই প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামেও রয়েছে মূল্যবান প্লট।এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরসহ নিজ এলাকায় শতাধিক বিঘা কৃষিজমি, মাছের ঘের ও খামারের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে আরও বিপুল সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।সূত্রগুলো জানায়, ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান মাইকেল মহিউদ্দিন। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। এভাবে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ ও বদলিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেন,
“বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।”তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভী দুদক চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে এই বহুল আলোচিত অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ
সেজান মাহমুদ সোহেল
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত