প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: এলাকা পরিদর্শনে এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদের ওপর হামলাা
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, হাতিয়া (নোয়াখালী-৬) | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মাসউদ তার গাড়িবহর নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝির নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ও হামলা চালায়।হামলার প্রতিবাদে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলায় দলটির নেতাকর্মীদের ১০টির বেশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। দলটির দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।জাতীয় যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ বলেন,
“একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর পুলিশের সামনে এভাবে হামলা কাম্য নয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আমাদের ২০ জন নেতাকর্মীর বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”এদিকে, হামলার ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির হরণী ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন,
“নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে যখন বিএনপির সন্ত্রাসীরা হত্যার চেষ্টা করে, তখন এমপির জীবন বাঁচাতে ও আত্মরক্ষার্থে এনসিপির নেতাকর্মীরা গাছের ঢাল ও রাস্তার ইটের টুকরো তুলে নিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এখন সেই ঘটনাকে বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কিশোর গ্যাং’-এর কাজ বলে প্রচার করা হচ্ছে। এমন যুক্তি কতটা মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত, তা ভেবে দেখার বিষয়।”তিনি আরও বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে হান্নান মাসউদ ভাইয়ের নেতাকর্মীরা হামলা করার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল কি? পুলিশের উপস্থিতিতে কেউ কি ইচ্ছে করে হামলা চালাতে পারে? বরং পুলিশের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ছিলেন।”হামলার ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন,
“হামলাকারী সন্ত্রাসী বেলাল মাঝিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে অবস্থান ছাড়ব না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন,
“২০১৮ সালেও একই ব্যক্তি সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল।”ঘটনার বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন,
“আমাদের পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতেই সেখানে গিয়েছিলেন এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ
সেজান মাহমুদ সোহেল
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক নিবার্তা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত